জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, কোনো ডিসেম্বরেই ‘আপার’ বাংলাদেশে আসার সুযোগ নেই। দেশে ফিরলে তার জন্য ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। নাহিদ বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা এখনো ঘুমিয়ে যায়নি। প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নিজেদের অবস্থানের প্রমাণ দিতে হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা’ শীর্ষক কার্যক্রমের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্রশক্তি, নোবিপ্রবি শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে। তারা ৭ নভেম্বরকে ধারণ করেন এবং একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকেও বিপ্লব হিসেবে বিবেচনা করেন। বর্তমান সরকারের পক্ষে গেলেই কোনো ঘটনা বিপ্লব হিসেবে স্বীকৃতি পাবে, আর বিপক্ষে গেলেই তা বিপ্লব হিসেবে গণ্য হবে না, এমন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, সেদিন সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সামরিক ও গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল। একইভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তার মতে, মাত্র ৩৬ দিনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের শাসন, শোষণ ও নির্যাতনের ইতিহাস। জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ বুঝতে হলে বাংলাদেশের গত ১০০ বছরের ইতিহাস জানতে হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, আন্দোলনের সময় যেভাবে প্রস্তুতি ছিল, এখন তার চেয়েও বেশি প্রস্তুত থাকতে হবে। অতীতে তারা অনেক উদারতা দেখিয়েছেন এবং ক্ষমা করার মানসিকতা রেখেছিলেন। ওসমান হাদির ভাষায় শত্রুর প্রতিও ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে গত দুই বছরে কোনো বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। তার ভাষ্য, ওসমান হাদি হত্যার বিচার হয়নি, একইভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের হত্যারও বিচার পাওয়া যায়নি। মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার না পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডিসেম্বরকে বাংলাদেশের প্রতিরোধ ও বিজয়ের মাস হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালে এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা বিজয় অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও প্রতিটি ডিসেম্বরে ছাত্র-জনতা বিজয়ী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এনসিপির এই নেতা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তাদের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করেছেন, নতুন শিক্ষার্থীদেরও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদের জায়গা হবে না, এমনকি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েও নয়। জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইনকিলাবের জয়গান অব্যাহত রাখতে সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন