চন্দনাইশ প্রতিনিধিঃ মো. নুরুল আলম
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫ দিনব্যাপী আবাসিক বেসিক কোর্সে চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উত্তর হারলা পূর্ব জোয়ারা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় চলমান ২৩৪তম কাব স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্সে খাবারের মান অত্যন্ত খারাপ এবং আবাসিক কোর্স হলেও প্রশিক্ষণার্থীরা রাতে ভেন্যুতে থাকছেন না।
বাংলাদেশ স্কাউটস, চট্টগ্রাম অঞ্চলের স্মারক নং- বাঃ স্কাঃ, চট্টঃ অঃ (প্রশিক্ষণ)/৫৭৩(১৪)/২৬, তারিখ: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি. অনুযায়ী গত ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ কোর্সটি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে কাব স্কাউটিং সম্প্রসারণ প্রকল্পের (৪র্থ পর্যায়) আওতায় এ কোর্সে ৪২ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। কোর্স পরিচালনা করছেন ৮ জন প্রশিক্ষক। যার মধ্যে কোর্স লিডার স্কাউটার আবদুল্লাহ হান্নান (এলটি)।

তথ্য-উপাত্তে যা পাওয়া গেছে:
১. খাবারের বরাদ্দ ও বাস্তবতা:
প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী ৪২ জন প্রশিক্ষণার্থী ও ৮ জন প্রশিক্ষক সহ ৫০ জনের জন্য ৫ দিনে প্রতিজন ৬ বেলা প্রধান খাবার (দুপুর ও রাত) ও ১০ বেলা নাস্তা পাওয়ার কথা। জনপ্রতি দৈনিক বরাদ্দ প্রায় ৪৫০-৫০০ টাকা। সেই হিসাবে ৫ দিনে খাবার খাতে মোট বরাদ্দ প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। কিন্তু প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, তাদেরকে সকালে ও বিকেলে ছোট একটি কলা, আধা সিদ্ধ পরোটা বা ২টি বিস্কুট, দুপুরে পানিযুক্ত সবজি ও দুর্গন্ধযুক্ত ছোট মুরগি বা মাছ দেওয়া হয়েছে।
২. আবাসিকের নিয়ম ভঙ্গ:
বাংলাদেশ স্কাউটসের গঠন ও নিয়ম ১৯৭২ (সংশোধিত ২০২১) এর ৫৭ ধারা অনুযায়ী ইউনিট লিডার বেসিক কোর্স বাধ্যতামূলক আবাসিক। ২৪ ঘণ্টা ভেন্যুতে না থাকলে, তাঁবু জলসা, ক্যাম্প ফায়ার, হাইকিং ও নাইট হাইকে অংশ না নিলে তিনি সনদ পাওয়ার যোগ্য নন। কিন্তু সরেজমিনে গত চার রাতে রাত ৯টার পর ভেন্যুতে গিয়ে দেখা যায়, ভেন্যু ফাঁকা। হোস্টেলে ৪২ জনের মধ্যে ১০-১৫ জন ছাড়া কেউ নেই।
৩. কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তি:
এ বিষয়ে চন্দনাইশ উপজেলা স্কাউটের সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন, কমিশনার মো. হাবিবুল্লাহ ও অর্থ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, "আমরা নিজেরাও খোঁজ নিয়ে দেখেছি, খাবারের মান খারাপ এবং রাতে প্রশিক্ষণার্থীরা থাকছেন না। বিষয়টি আমরা জেলা ও অঞ্চলকে জানিয়েছি।"
খাবারের মান নিয়ে ক্ষোভ, অতঃপর প্রতিবাদে উন্নতি:
প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ও শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) তারা জোরালো প্রতিবাদ জানালে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে খাবারের মান কিছুটা উন্নত করে। শুক্রবার দুপুরে মুরগির মাংস ও ডিম দেওয়া হয়।
একজন ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, "প্রতিবাদ না করলে খাবারের মান ঠিক হতো না। ৫ দিনের কোর্সে যে খাবার দেওয়া হয়েছে তা খাওয়ার অযোগ্য ছিল।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রশিক্ষণার্থী বলেন, "খাবারের মান খারাপ, টয়লেট অপরিষ্কার, মশার উপদ্রব ও বিদ্যুতের সমস্যার কারণে রাতে কেউ থাকতে চান না। সকালে এসে হাজিরা দিয়ে রাতে চলে যান। অথচ আবাসিক না থাকলে সনদ পাওয়ার কথা নয়।"
এতে প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের আশঙ্কা করছেন প্রশিক্ষণার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে কোর্স লিডার স্কাউটার আবদুল্লাহ হান্নান (এলটি) বলেন, "প্রথম দিকে খাবারের কিছুটা সমস্যা ছিল, এখন সমাধান করা হয়েছে। আবাসিকের বিষয়ে আমরা সবাইকে থাকার জন্য উৎসাহিত করছি।"
এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্কাউটস, চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক সম্পাদক এস এম শাহনেওয়াজ আলী মির্জার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় স্কাউটার ও সচেতন মহল।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন