দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে আজ ১ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ২০২৬–২৭ পর্যটন মৌসুম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপে ভ্রমণের পাশাপাশি রাতযাপনও করতে পারবেন। তবে মৌসুম শুরু হলেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও জাহাজের রুট পারমিট সম্পন্ন না হওয়ায় আজ থেকেই পর্যটক পরিবহন শুরু হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সব অনুমোদন পাওয়া গেলে ৫ অথবা ৬ নভেম্বর থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে।
সেন্ট মার্টিনে রাতযাপন নিয়ে কয়েক দিন ধরে পর্যটকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল। প্রথম নির্দেশনায় নভেম্বর মাসে পর্যটকদের দিনে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসা এবং শুধু ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ থাকার কথা সামনে এসেছিল। পরে ২৭ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংশোধিত নির্দেশনা জারি করে। এতে ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পুরো পর্যটন মৌসুমেই দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এবার সেন্ট মার্টিনে প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক যেতে পারবেন। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। গত মৌসুমে দৈনিক পর্যটকের সীমা ছিল দুই হাজার, ফলে এবার সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। পর্যটকদের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই দ্বীপে প্রবেশ ও অবস্থান করতে হবে।
সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের জন্য আগের মতো এবারও ট্রাভেল পাস নেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যটকদের অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে এবং টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে। বৈধ কিউআর কোড ছাড়া টিকিট গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিদিন দ্বীপে যাওয়া পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।
অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে জাহাজ পরিচালনার জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের পাশাপাশি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন। এসব প্রক্রিয়ার কয়েকটি এখনো শেষ না হওয়ায় ১ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। তাই ভ্রমণের আগে জাহাজের নির্ধারিত সময়সূচি ও টিকিট চালুর তথ্য যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় আগের বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞাও বহাল থাকছে। রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ থাকবে। কেয়াবনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল সংগ্রহ, কেনাবেচা করাও যাবে না। একই সঙ্গে সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা একই ধরনের যানবাহন চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সামুদ্রিক কাছিম, প্রবাল, পাখি, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। নিষিদ্ধ পলিথিন দ্বীপে নেওয়া যাবে না এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন না করতে পর্যটকদের উৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির বোতল বা ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।
দীর্ঘ নয় মাস পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকার পর নতুন মৌসুমকে ঘিরে সেন্ট মার্টিনের হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরছে। রাতযাপনের সময়সীমা বাড়ায় এবার পর্যটকদের জন্য দ্বীপে থাকার সুযোগও আগের তুলনায় বেশি হচ্ছে। তবে ভ্রমণের আগে অনুমোদিত জাহাজ, কিউআর কোডযুক্ত টিকিট, ট্রাভেল পাস ও আবাসনের তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়াই নিরাপদ। একই সঙ্গে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটির পরিবেশ রক্ষায় সরকার নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন